বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী বর্ষাকাল মানেই অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং চারপাশের বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা হিউমিডিটি। ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী, ফুলগাজী ও পরশুরামের গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে বর্ষার মৌসুমে পোল্ট্রি ও হাঁস-মুরগির খামারিদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শেডের ভেতর স্যাঁতসেঁতে ভাব ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ ঠেকানো। আর্দ্রতার কারণে লিটার বা মেঝের তুষ দ্রুত ভিজে গিয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন করে, যা মুরগির শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও কোকসিডিওসিস (আমাশয়) রোগের মতো মারাত্মক মহামারি ডেকে আনে। হিমি এগ্রো (Himi Agro) খামারের দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব বর্ষার মৌসুমে আপনার খামারকে কীভাবে শতভাগ নিরাপদ ও রোগমুক্ত রাখবেন।
বর্ষাকালে শেডের ভেতর লিটার বা কাঠের গুঁড়ো শুকনা রাখা সবচেয়ে কঠিন কাজ। তুষ বা কুঁড়ো ভিজে গেলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস দ্রুত বংশবিস্তার করে। তাই নিয়মমাফিক লিটার প্রতিদিন ওলটপালট করে বাতাস চলাচলের সুযোগ করে দিতে হবে। কোনো অংশ অতিরিক্ত ভিজে গেলে তা সাথে সাথে তুলে ফেলে নতুন শুকনা তুষ দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হবে। খামারের চাল বা বেড়া দিয়ে যেন কোনোভাবেই বৃষ্টির ছাঁট বা পানি ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।
বর্ষার মৌসুমে শেওলা জমা পানি বা আর্দ্র জায়গায় রাখা ফিড থেকে মুরগির পেটের পীড়া ও আমাশয় হতে পারে। খাবার ও পানির পাত্র প্রতিদিন সকালে পটাশ মিশ্রিত পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এছাড়া ফিড সবসময় ঘরের উঁচুতে এবং শুকনা স্থানে প্লাস্টিকের ড্রামে বা মাচায় সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে ছত্রাক বা মাইকোটক্সিন (Mycotoxin) আক্রমণ করতে না পারে।
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই শেডের চারপাশে এবং প্রবেশমুখে চুন ও শক্তিশালী জীবাণুনাশক (যেমন: ভিরকন এস বা পটাশ) নিয়মিত স্প্রে করা বাধ্যতামূলক। খামারের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় দর্শনার্থীদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে এবং খামারিকে অবশ্যই শেডের আলাদা গামবুট ও পোশাক ব্যবহার করতে হবে।
বর্ষার মৌসুমে খামারের যেকোনো কারিগরি সমস্যা বা রোগবালাই দমনে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
প্রোপ্রাইটর: হিমি
ফোন/হটলাইন: ০১৮৫৮৯৬৯২৪৭
ঠিকানা: দক্ষিণ বল্লবপুর, হিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী।
লিটার ভিজে গেলে অতিরিক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা পাখির চোখে প্রদাহ, শ্বাসকষ্ট এবং আমাশয় বা কোকসিডিওসিস রোগ সৃষ্টি করে।
শেডের চারপাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত রাখা, নিয়মিত লিটার ওলটপালট করে শুকনা রাখা এবং বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সরবরাহ করা।
হ্যাঁ, আমাদের হিলুয়া ও দক্ষিণ বল্লবপুর শাখায় যোগাযোগ করে খামারিরা যেকোনো সময় ফ্রি কারিগরি পরামর্শ নিতে পারেন।
জরুরি নোট: খামার ব্যবস্থাপনায় যেকোনো বড় কারিগরি সিদ্ধান্ত, অ্যান্টিবায়োটিক বা রোগবালাই দমনে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আমি হিমি, পেশায় একজন ওয়েব ডেভেলপার এবং নেশায় একজন খামারি। প্রযুক্তি এবং কৃষির সমন্বয়ে খামারকে লাভজনক করার অভিজ্ঞতাগুলোই আমি এখানে শেয়ার করি।