বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিক পোল্ট্রি ও হাঁস-মুরগি পালনে খামারিদের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হলো আকাশচুম্বী ফিডের দাম। একটি খামারের মোট পরিচালনা ব্যয়ের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই চলে যায় খাদ্যের পেছনে। ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী বা দাগনভূঞার নতুন খামারিরা অনেকেই বাজারে প্রচলিত চড়া দামের ফিড কিনতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়েন। এই আর্থিক চাপ মোকাবিলা করার জন্য শুধুমাত্র দামি কোম্পানির ফিডের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় উপাদান দিয়ে সুষম ও পুষ্টিকর কাস্টম ফিড তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। হিমি এগ্রো (Himi Agro) খামারের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে আজকের ব্লগে আমরা শেয়ার করব কীভাবে খামারের ফিড খরচ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনা যায়।
মুরগি বা হাঁসের দ্রুত বৃদ্ধি এবং ডিম উৎপাদনের জন্য খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, এনার্জি, ক্যালসিয়াম ও খনিজ লবণ থাকা আবশ্যক। কম খরচে ফিড তৈরি করতে হলে এমন উপাদান বেছে নিতে হবে যাতে পুষ্টিমান ঠিক থাকে অথচ খরচ অনেক কমে যায়। যেমন—ভুট্টার গুঁড়ো, চালের কুঁড়ো, গমের ভুসি, তিলের খৈল এবং শুঁটকি গুঁড়ো বা প্রোটিন কনসেন্ট্রেট সঠিক অনুপাতে মিশিয়ে চমৎকার হোমমেড ফিড তৈরি করা সম্ভব।
ফিড খরচ কমানোর সবচেয়ে জাদুকরী উপায় হলো খামারের আশপাশে পুষ্টিকর সবুজ ঘাস চাষ করা। ফাউমি, সোনালী বা দেশি মুরগির জন্য নেপিয়ার বা পাকচং ঘাস কুচিয়ে দেওয়া কিংবা প্রোটিনসমৃদ্ধ 'অ্যাজোলা' চাষ করে খাবারের সাথে মিশিয়ে দিলে দানাদার ফিডের চাহিদা অনেকটাই কমে যায়। এতে একদিকে যেমন খরচ বাঁচে, অন্যদিকে পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ডিমের কুসুমের রঙ দারুণ উজ্জ্বল হয়।
অনেক সময় খামারে ভুল ডিজাইনের ফিডার ব্যবহারের কারণে মুরগি পা দিয়ে খাবার বাইরে ফেলে নষ্ট করে। প্রতিদিনের মোট খাবারের প্রায় ১০-১৫ শতাংশ এভাবেই অপচয় হয়। তাই বয়স অনুপাতে সঠিক গভীরতার ফিডার ব্যবহার করা এবং দিনে ২-৩ বার নির্দিষ্ট পরিমাণে খাবার সরবরাহ করা উচিত, যাতে পাত্র খালি না থাকে এবং খাবার ফেলে দিতে না পারে।
ফিড ফর্মুলেশন বা কম খরচে খামার পরিচালনার সঠিক গাইডলাইন পেতে আজই যোগাযোগ করুন।
প্রোপ্রাইটর: হিমি
ফোন/হটলাইন: ০১৮৫৮৯৬৯২৪৭
ঠিকানা: দক্ষিণ বল্লবপুর, হিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী।
না, যদি প্রোটিন, এনার্জি এবং ক্যালসিয়ামের সঠিক অনুপাত বজায় রেখে ফিড তৈরি করা হয়, তবে উৎপাদন বরং আরও ভালো হতে পারে।
সঠিক ঘাস ব্যবস্থাপনা ও ঘরোয়া ফর্মুলা ব্যবহার করলে ফিড খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।
অবশ্যই! আমাদের হিলুয়া ও দক্ষিণ বল্লবপুর শাখায় যোগাযোগ করে খামারিরা সম্পূর্ণ ফ্রি টেকনিক্যাল গাইডলাইন নিতে পারেন।
জরুরি নোট: খামার ব্যবস্থাপনায় যেকোনো বড় কারিগরি সিদ্ধান্ত বা কাস্টম ফিড ফর্মুলা তৈরির পূর্বে অবশ্যই অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদ বা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আমি হিমি, পেশায় একজন ওয়েব ডেভেলপার এবং নেশায় একজন খামারি। প্রযুক্তি এবং কৃষির সমন্বয়ে খামারকে লাভজনক করার অভিজ্ঞতাগুলোই আমি এখানে শেয়ার করি।