বাংলাদেশের আবহাওয়া প্রধানত উষ্ণ ও অত্যন্ত আর্দ্র হওয়ায় কমার্শিয়াল পোল্ট্রি, সোনালী, ফাউমি ও হাঁসের খামারগুলোতে প্রায়শই এক নীরব ঘাতকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়—তা হলো ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ছত্রাকজনিত রোগ। বিশেষ করে খামারের লিটার বা কাঠের গুঁড়ো ভিজে গেলে সেখানে Aspergillus fumigatus নামক ক্ষতিকর ফাঙ্গাস দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং বাচ্চার ফুসফুসে বিষাক্ত ব্রুডার নিউমোনিয়া বা এস্পারগিলোসিস (Aspergillosis) তৈরি করে। এছাড়া খোলা ও আদ্র বাতাসে জমা রাখা ফিডে বিষাক্ত ছত্রাকজাতীয় উপাদান মাইকোটক্সিন (Mycotoxin) তৈরি হয়, যা খেলে মুরগির লিভার নষ্ট হয়ে যায় এবং রক্তশূন্যতায় হঠাৎ মৃত্যু ঘটে। ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও দাগনভূঞার খামারিদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে হিমি এগ্রো (Himi Agro) আজকে নিয়ে এসেছে এই মারাত্মক ফাঙ্গাল সমস্যা সমাধানের বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন।
১ থেকে ১৫ দিন বয়সের বাচ্চার ক্ষেত্রে ফাঙ্গাস আক্রমণের প্রধান উপসর্গগুলো হলো:
ফিড বা দানাদার খাবার স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে বস্তা বানিয়ে রাখলে মেঝের ভেজা ভাব ফিডে ঢুকে ফাঙ্গাস সৃষ্টি করে। এই ফাঙ্গাস থেকে নিঃসৃত 'আফলাটক্সিন' নামক বিষ মুরগির পরিপাকতন্ত্র ও গিজার্ড জ্বালিয়ে দেয় এবং লিভার বড় করে ফেলে। এটি রোধ করতে ফিডের বস্তা সবসময় কাঠের র্যাক বা প্লাস্টিক প্যালেটের ওপর রাখতে হবে এবং ফিড ফর্মুলেশনের সময় অবশ্যই মানসম্মত টক্সিন বাইন্ডার (Toxin Binder) যুক্ত করতে হবে।
খামারের তুষ বা কাঠের গুঁড়ো অবশ্যই আগে থেকে ভালো করে কড়া রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। লিটারে কোনো ফাঙ্গাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বা গন্ধ হলে সাথে সাথে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করা উচিত। তাছাড়া পানির পাত্রের জৈব স্তর ও শেওলা পরিষ্কার করতে সপ্তাহে অন্তত ১-২ দিন বিশুদ্ধ পানির সাথে নির্ধারিত মাত্রায় কপার সালফেট (তুঁতে) বা জৈব এসিড ব্যবহার করলে ফাঙ্গাসের ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
পোল্ট্রি খামারের ফাঙ্গাস প্রতিরোধ, পানির এসিডিক ট্রিটমেন্ট ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যোগাযোগ করুন।
প্রোপ্রাইটর: হিমি
ফোন/হটলাইন: ০১৮৫৮৯৬৯২৪৭
ঠিকানা: দক্ষিণ বল্লবপুর, হিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী।
না, বাচ্চার বয়স ৩-১২ দিন হলে এবং কোনো হাঁচি-কাশি ছাড়া বুক ফুলিয়ে হা করে শ্বাস নিলে তা সাধারণ সর্দির চেয়ে ব্রুডার নিউমোনিয়া বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের লক্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
টক্সিন বাইন্ডার খাবারের বিষাক্ত মাইকোটক্সিন ও আফলাটক্সিনকে শুষে নিয়ে পাখির মলদ্বার দিয়ে বের করে দেয়, যার ফলে মুরগির লিভার ও কিডনি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।
জি অবশ্যই! আমাদের ছাগলনাইয়ার হিলুয়া ও দক্ষিণ বল্লবপুর শাখায় এসে খামারিরা সরাসরি ভেেন্টিলেশন ও বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা দেখে পরামর্শ নিতে পারেন।
জরুরি ভেটেরিনারি নোট: পোল্ট্রির যেকোনো গুরুতর ভাইরাসবাহিত বা ফাঙ্গাল রোগের চিকিৎসা ও ওষুধ প্রয়োগের জন্য অবশ্যই অভিজ্ঞ পোল্ট্রি কনসালটেন্ট বা রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আমি হিমি, পেশায় একজন ওয়েব ডেভেলপার এবং নেশায় একজন খামারি। প্রযুক্তি এবং কৃষির সমন্বয়ে খামারকে লাভজনক করার অভিজ্ঞতাগুলোই আমি এখানে শেয়ার করি।