বর্তমান সময়ে গ্রীষ্মকাল কিংবা বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসের তীব্র তাপদাহে ফেনী, ছাগলনাইয়া এবং আশপাশের অঞ্চলগুলোতে তাপমাত্রার পারদ চরম আকার ধারণ করছে। এই অতিরিক্ত গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় পোল্ট্রি খামারের মুরগি ও হাঁস অত্যন্ত বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ে। মুরগির গায়ে কোনো ঘাম গ্রন্থি না থাকায় তারা হাঁ করে শ্বাস নিয়ে শরীর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করে, যার ফলে তীব্র গরমে 'হিট স্ট্রোক' (Heat Stroke) বা হিট স্ট্রেসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায় এবং ডিম ও মাংসের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। হিমি এগ্রো (Himi Agro) খামারের পক্ষ থেকে আজকের এই বিশেষ ব্লগে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় আপনার খামারকে কীভাবে শতভাগ সুরক্ষিত রাখবেন।
খামারের ভেতরে বাতাস চলাচল বা ক্রস-ভেন্টিলেশন নির্বিঘ্ন রাখা হলো গরমে পাখি বাঁচানোর প্রথম শর্ত। শেড ঠান্ডা রাখতে এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত কার্যকরী:
তীব্র গরমে মুরগি বা হাঁস খাবার খাওয়া মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়, কিন্তু তাদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
খামারে অতিরিক্ত গাদাগাদি করে পাখি রাখলে গরমের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম পাখি এক শেডে রাখলে হাওয়া চলাচলের পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি হয়। এছাড়া লিটার বা মেঝের তুষ যেন কোনোভাবেই অতিরিক্ত পুরু বা গরম না হয়ে যায়, সেদিকে সতর্ক নজর রাখুন। প্রয়োজনে দিনের ঠাণ্ডা সময়ে লিটার ওলটপালট করে ভেতরের জমাকৃত অ্যামোনিয়া গ্যাস বের করে দিন।
যাঁরা নিজস্ব ইনকিউবেটরে বাচ্চা ফোটাচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই গরমের আবহাওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাইরের তাপমাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে ইনকিউবেটরের ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত থার্মোস্টেট লেভেল ছাড়িয়ে যেতে পারে। আমাদের সরবরাহকৃত XM-18 বা W1209 কন্ট্রোলার ব্যবহারকারী খামারিরা ভেন্টিলেশন ফ্যান এবং কুলিং সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা দিনে একাধিকবার পুনরায় চেক করে নিন।
আমরা কেবল বাণিজ্যিক বা লাভজনক ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত থাকি না; ফেনী জেলার সামগ্রিক পোল্ট্রি শিল্পের সমৃদ্ধি ও সুরক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই দুর্যোগপূর্ণ গরমের আবহাওয়ায় যেকোনো খামারি যদি কোনো বিপদে পড়েন বা কারিগরি সমস্যায় পড়েন, তবে সরাসরি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের অভিজ্ঞ টেকনিশয়ান টিম আপনাদের যেকোনো সহায়তায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতাই পারে আপনার খামারের হাজার হাজার পাখিকে অকাল মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে।
প্রোপ্রাইটর: হিমি
ফোন/হটলাইন: ০১৮৫৮৯৬৯২৪৭
ঠিকানা: দক্ষিণ বল্লবপুর, হিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী।
মুরগির শরীরে কোনো ঘাম গ্রন্থি না থাকায় এবং শেডের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তারা শরীর ঠান্ডা করতে না পেরে হিট স্ট্রেসের শিকার হয়।
দিনের সবচেয়ে গরম সময় অর্থাৎ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফিড সরবরাহ বন্ধ রাখা উচিত, যাতে বিপাকীয় তাপ উৎপন্ন না হয়।
বিশুদ্ধ ঠাণ্ডা পানির সাথে মানসম্মত ইলেক্ট্রোলাইট এবং ভিটামিন-সি পাউডার মিশিয়ে দিলে পাখির হিট স্ট্রেস ও শরীরের ক্লান্তি দূর হয়।
ইনকিউবেটর রুমের তাপমাত্রা এসির মাধ্যমে বা ক্রস ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে সহনশীল রাখতে হবে এবং ফ্যান ও সেন্সরগুলো নিয়মিত চেক করতে হবে।
অবশ্যই! আমাদের হিলুয়া ও দক্ষিণ বল্লবপুর শাখায় সরাসরি যোগাযোগ করে বা হটলাইনে কল করে খামারিরা যেকোনো জরুরি পরামর্শ নিতে পারেন।
যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের হটলাইন নাম্বার ০১৮৫৮৯৬৯২৪৭ এ কল করতে পারেন।
জরুরি নোট: খামার ব্যবস্থাপনায় যেকোনো বড় কারিগরি সিদ্ধান্ত বা অতিরিক্ত গরমে রোগবালাই দমনে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আমি হিমি, পেশায় একজন ওয়েব ডেভেলপার এবং নেশায় একজন খামারি। প্রযুক্তি এবং কৃষির সমন্বয়ে খামারকে লাভজনক করার অভিজ্ঞতাগুলোই আমি এখানে শেয়ার করি।