বাংলাদেশের ডেইরি এবং ছাগল (ব্ল্যাক বেঙ্গল ও তোতাপুরি) খামারিদের বছরের যেকোনো সময়ে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম হলো পিপিআর (Peste des Petits Ruminants - PPR) এবং খুরারোগ (Foot and Mouth Disease - FMD)। এই দুটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত মারাত্মক রোগ এক খামার থেকে অন্য খামারে বাতাসের মাধ্যমে এবং জীবাণুদূষিত সরঞ্জামের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে প্রতিরোধমূলক ভ্যাকসিন না দিলে এবং প্রাথমিক অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা না করলে খামারের শতভাগ পশু মৃত্যুমুখে পতিত হতে পারে অথবা উৎপাদন ক্ষমতা স্থায়ীভাবে হারিয়ে ফেলে। ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজীর বাণিজ্যিক খামারিদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে হিমি এগ্রো (Himi Agro) আজকে নিয়ে এসেছে এই রোগ দুটি মোকাবিলার আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রোটোকল।
পিপিআর প্রধানত ছাগল ও ভেড়ার মারাত্মক ভাইরাসবাহিত ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত পশুর মধ্যে যে লক্ষণগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায়:
খুরারোগে মূলত গরু, মহিষ ও ছাগলের খুর এবং মুখের ভেতর মারাত্মক ফোসকা ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়। আক্রান্ত গরু অতিরিক্ত লালা ফেলে এবং খুঁড়িয়ে হাঁটে। সঠিক সময়ে পটাশ মিশ্রিত ইষদুষ্ণ গরম পানি দিয়ে মুখ ও খুরের ক্ষত পরিষ্কার না করলে পোকা বা সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ঘটে অবস্থা জটিল হয়ে যায়।
ভাইরাসজনিত রোগের কোনো সরাসরি নিরাময়কারী ওষুধ নেই; তাই প্রতিরোধই একমাত্র চিকিৎসা। প্রতিটি ছাগলকে ৪ মাস বয়সে পিপিআর ভ্যাকসিন দিতে হবে (যার মেয়াদ থাকে ১ থেকে ৩ বছর)। অন্যদিকে গরুকে ৪ মাস বয়সে প্রথম এফএমডি (FMD) ভ্যাকসিন দিয়ে প্রতি ৬ মাস পরপর বুস্টার ডোজ দিতে হয়। এছাড়া রোগাক্রান্ত পশুকে সাথে সাথে আলাদা (Quarantine) করে পুরো শেডে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট বা চুন ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
লাইভস্টক খামার ব্যবস্থাপনা ও সুস্থ পশু ক্রয়ের বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ পেতে যোগাযোগ করুন।
প্রোপ্রাইটর: হিমি
ফোন/হটলাইন: ০১৮৫৮৯৬৯২৪৭
ঠিকানা: দক্ষিণ বল্লবপুর, হিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী।
বাচ্চা ছাগলের ৪ মাস বয়সে প্রথম পিপিআর ভ্যাকসিন দিতে হয় এবং ব্যবহৃত ভ্যাকসিনের ধরন অনুযায়ী ১ থেকে ৩ বছর পরপর পুনরায় টিকা প্রয়োগ করতে হয়।
হালকা গরম পানিতে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (পটাশ) মিশিয়ে খুর ও মুখ পরিষ্কার করা এবং সোহাগার খৈ মধু দিয়ে জিভে মেখে দেওয়া অত্যন্ত কার্যকারী ঘরোয়া প্রাথমিক চিকিৎসা।
জি অবশ্যই! আমাদের ছাগলনাইয়ার হিলুয়া ও দক্ষিণ বল্লবপুর শাখায় এসে কিংবা যোগাযোগের নাম্বারে কল করে খামারিরা সঠিক বায়োসিকিউরিটি নির্দেশিকা নিতে পারেন।
জরুরি ভেটেরিনারি নোট: যেকোনো সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য অবশ্যই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি চিকিৎসকের প্রত্যক্ষ পরামর্শ নিন।
আমি হিমি, পেশায় একজন ওয়েব ডেভেলপার এবং নেশায় একজন খামারি। প্রযুক্তি এবং কৃষির সমন্বয়ে খামারকে লাভজনক করার অভিজ্ঞতাগুলোই আমি এখানে শেয়ার করি।