পোল্ট্রি ব্যবসায় সফল উদ্যোক্তা হতে হলে শুধুমাত্র প্রাথমিক মূলধন বা পুঁজি থাকলেই চলে না, এর জন্য প্রয়োজন নিখুঁত পরিকল্পনা, নিয়মিত শ্রম এবং বাস্তবসম্মত খামার পরিচালনার অভিজ্ঞতা। ফেনী ও ছাগলনাইয়ার অনেক তরুণ বেকার যুবক ও উদ্যোক্তা বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে ফাউমি মুরগি পালন করার কথা ভাবছেন। হিমি এগ্রো (Himi Agro) খামারের দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আজকের এই বিশেষ ব্লগে আমরা বিস্তারিত তুলে ধরব কীভাবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মাত্র ৫০০ ফাউমি মুরগি পালন করে একজন সফল ও লাভজনক খামারি হওয়া সম্ভব।
বাণিজ্যিকভাবে ৫০০ ফাউমি মুরগি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে পালনের জন্য অন্তত ১০০০ বর্গফুট আয়তনের খোলামেলা ঘরের ব্যবস্থা করতে হবে। ঘরের চাল ও দেওয়াল এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে এবং তীব্র গরমেও যেন দমবন্ধ পরিবেশ তৈরি না হয়। আমরা আমাদের ছাগলনাইয়ার হিলুয়া এলাকায় খামার শুরু করার সময় বাঁশ ও টিনের সাশ্রয়ী অথচ টেকসই ঘর তৈরির মডেল ব্যবহার করেছি, যা আমাদের প্রাথমিক ঘর নির্মাণের খরচ অনেকটাই কমিয়ে এনেছিল।
পোল্ট্রি পালনের ক্ষেত্রে প্রথম ৪ থেকে ৫ মাস (ডিম আসার পূর্ব পর্যন্ত) একটানা মূলধন বিনিয়োগ করতে হয়। কারণ এই সময়ে মুরগি থেকে কোনো সরাসরি আয় আসে না।
ফাউমি মুরগি সাধারণত বয়স সাড়ে ৪ থেকে ৫ মাস হওয়া মাত্রই নিয়মিত ডিম পাড়া শুরু করে, যা খামারির নিয়মিত ক্যাশফ্লো তৈরি করে।
সফল খামারিদের ডায়েরিতে সব সময় একটি কথাই প্রধান হিসেবে লেখা থাকে—বায়োসিকিউরিটি হলো খামারের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। হিমি এগ্রো খামারে আমরা বহিরাগত দর্শনার্থীদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করি এবং নিয়মিত ফ্লোরে ও শেডে মানসম্মত জীবাণুনাশক স্প্রে নিশ্চিত করি। এর ফলে আমাদের খামারে মুরগির মরণশীলতা বা মরটালিটি রেট সবসময় ৫ শতাংশের নিচে রাখা সম্ভব হয়।
আমরা অত্যন্ত গর্বের সাথে বলতে পারি যে, হিমি এগ্রো আজ ফেনী জেলার দাগনভূঞা, সোনাগাজী, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার শত শত স্বাবলম্বী খামারির আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আমাদের দক্ষিণ বল্লবপুর ও হিলুয়া শাখার প্রবেশদ্বার আপনার খামার যাত্রাকে সহজ করতে সর্বদা উন্মুক্ত। আপনি যেকোনো সময় সশরীরে এসে আমাদের খামার ভিজিট করে বাস্তব ধারণা নিতে পারেন।
প্রোপ্রাইটর: হিমি
মোবাইল/হটলাইন: ০১৮৫৮৯৬৯২৪৭
ঠিকানা: দক্ষিণ বল্লবপুর, হিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী।
প্রাপ্তবয়স্ক ৫০০ ফাউমি মুরগি স্বাচ্ছন্দ্যে পালনের জন্য অন্তত ১০০০ বর্গফুট আয়তনের খোলামেলা ও আলো-বাতাসপূর্ণ ঘরের ব্যবস্থা করতে হয়।
সুষম খাদ্য ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করলে ফাউমি মুরগি সাধারণত সাড়ে চার থেকে পাঁচ মাস বয়সের মধ্যে নিয়মিত ডিম দেওয়া শুরু করে।
উন্নত ম্যানেজমেন্ট ও ফিড ঠিক থাকলে ৫০০ মুরগির একটি লট থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০টি ডিম পাওয়া যায়।
বাচ্চা ক্রয়, ঘর তৈরি এবং প্রথম পাঁচ মাস খাদ্য ও ওষুধ বাবদ প্রাথমিক বিনিয়োগ ১.৫ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকার মতো হতে পারে।
কঠোর বায়োসিকিউরিটি বজায় রাখা, সময়মতো ভ্যাকসিন প্রদান করা এবং অসুস্থ পাখিকে দ্রুত আলাদা করা হলো মরণশীলতা কমানোর মূল উপায়।
অবশ্যই! ফেনীর ছাগলনাইয়ার দক্ষিণ বল্লবপুর ও হিলুয়া শাখায় এসে যেকোনো উদ্যোক্তা আমাদের খামার পরিদর্শন করে সরাসরি অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।
জরুরি নোট: খামার ব্যবস্থাপনায় যেকোনো বড় বিনিয়োগ বা রোগবালাই দমনে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আমি হিমি, পেশায় একজন ওয়েব ডেভেলপার এবং নেশায় একজন খামারি। প্রযুক্তি এবং কৃষির সমন্বয়ে খামারকে লাভজনক করার অভিজ্ঞতাগুলোই আমি এখানে শেয়ার করি।