বাংলাদেশের কমার্শিয়াল পোল্ট্রি খামারে, বিশেষ করে সোনালী ও লেয়ার জাতের মুরগি পালনের ক্ষেত্রে খামারিদের মুখোমুখি হওয়া অন্যতম বিরক্তিকর ও আর্থিক লোকসানদায়ক সমস্যা হলো ক্যানিবালিজম (Cannibalism) বা একে অপরকে কামড়ে ধরে ঠোকরানো। অনেক সময় দেখা যায় শেডের ভেতর এক বা একাধিক মুরগি মিলে অন্য মুরগির পাছা, পাকনা বা ঘাড় ঠোকরে রক্তাক্ত করে ফেলে এবং একপর্যায়ে আক্রান্ত মুরগিটি মারা যায়। শুধু তাই নয়, ডিম পাড়া শুরু করলে নিজেদের ডিম নিজেরাই ঠোকরে ভেঙে খেয়ে ফেলার বদঅভ্যাস তৈরি হয়। ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও দাগনভূঞার অনেক খামারি সঠিক তথ্যের অভাবে এই রোগে বিপুল সংখ্যক পাখি হারান। হিমি এগ্রো (Himi Agro) খামারের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আজকে আমরা ক্যানিবালিজম এবং ডিম খাওয়ার বদঅভ্যাস প্রতিরোধের কার্যকর বৈজ্ঞানিক সমাধান তুলে ধরব।
মুরগির শরীরে কোনো রোগ না থাকা সত্ত্বেও মানসিক চাপ বা পুষ্টির অভাব থেকে এই আচরণ দেখা দেয়। প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
খাবারে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে ডিমের খোসা পাতলা বা নরম (সফট-শেল) হয়। ভুলবশত কোনো ডিম ভেঙে গেলে তার ভেতরের অংশ খেয়ে মুরগি এতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এটি রোধে খাবারে ক্যালসিয়াম ও ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট (DCP) বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া ডিম পাড়ার নেস্ট বা বাসা কিছুটা ছায়াযুক্ত ও অন্ধকার স্থানে স্থাপন করা উচিত এবং ডিম পাড়ার সাথে সাথে তা নেস্ট থেকে দ্রুত সংগ্রহ করে নিতে হবে।
ক্যানিবালিজম পুরোপুরি বন্ধ করার সবচেয়ে স্থায়ী ও বৈজ্ঞানিক সমাধান হলো আধুনিক ডি-বকিং মেশিনের মাধ্যমে মুরগির উপরের ও নিচের ঠোঁটের সূক্ষ্ম ও বাঁকানো অংশ কেটে দেওয়া। সাধারণত বাচ্চার বয়স ৮ থেকে ১২ দিনের মধ্যে একবার এবং পরবর্তীতে ১৬ থেকে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় ঠোঁটের তীক্ষ্ণ অংশ ট্রিম করে দিতে হয়। এতে খাবার খাওয়ায় কোনো সমস্যা হয় না, কিন্তু অন্য মুরগিকে আঘাত করা বা ডিম ভেঙে ফেলা শতভাগ বন্ধ হয়ে যায়।
সোনালী ও লেয়ার খামারের যেকোনো জটিল কারিগরি সমস্যা বা গাইডলাইনের জন্য যোগাযোগ করুন।
প্রোপ্রাইটর: হিমি
ফোন/হটলাইন: ০১৮৫৮৯৬৯২৪৭
ঠিকানা: দক্ষিণ বল্লবপুর, হিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী।
আক্রান্ত বা আহত মুরগিকে সাথে সাথে শেড থেকে আলাদা করতে হবে এবং তার ক্ষতে অ্যান্টিসেপটিক লাগাতে হবে। পাশাপাশি পানিতে সাময়িকভাবে লবণের মাত্রা ও লাইট ডিমিং করতে হবে।
না, নিখুঁতভাবে ডি-বকিং মেশিনে শুধু ঠোঁটের সূঁচালো অগ্রভাগ ট্রিম করলে খাবার গ্রহণে কোনো অসুবিধা হয় না, বরং খাবারের অপচয় অনেকটাই কমে যায়।
জি অবশ্যই! আমাদের ছাগলনাইয়ার হিলুয়া ও দক্ষিণ বল্লবপুর শাখায় সরাসরি এসে কিংবা ফোনে খামারিরা ক্যানিবালিজম ও শেড ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণ ফ্রি টিপস নিতে পারেন।
জরুরি নোট: খামার ব্যবস্থাপনায় যেকোনো বড় কারিগরি সিদ্ধান্ত বা ভিটামিন-মিনারেল প্রয়োগে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আমি হিমি, পেশায় একজন ওয়েব ডেভেলপার এবং নেশায় একজন খামারি। প্রযুক্তি এবং কৃষির সমন্বয়ে খামারকে লাভজনক করার অভিজ্ঞতাগুলোই আমি এখানে শেয়ার করি।