"এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত ১-৩ সপ্তাহ বয়সী বাচ্চাদের আক্রমণ করে। এতে বাচ্চার মাথা ও শরীর থরথর করে কাঁপতে থাকে এবং এক পর্যায়ে বাচ্চা পঙ্গু হয়ে যায়।"
এভিয়ান এনসেফালোমাইলাইটিস (AE) বা "এপি" মূলত একটি এন্টারোভাইরাস ঘটিত রোগ। এটি মুরগির কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। যদিও এটি বড় মুরগির ক্ষেত্রে শুধু ডিম উৎপাদন কমিয়ে দেয়, কিন্তু বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত ভয়াবহ। এই রোগে আক্রান্ত বাচ্চাগুলো কাঁপতে কাঁপতে এক সময় খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং মারা যায়।
মায়ের মাধ্যমে সংক্রমণ: যদি ডিম পাড়া মুরগি আক্রান্ত থাকে, তবে সেই ডিম থেকে হওয়া বাচ্চার এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ১০০%।
বিষ্ঠার মাধ্যমে: খামারে এক বাচ্চা থেকে অন্য বাচ্চার দেহে এটি বিষ্ঠা বা দূষিত লিটারের মাধ্যমে ছড়ায়।
শরীরে কাঁপুনি: বাচ্চার মাথা, ঘাড় এবং পুরো শরীরে সূক্ষ্ম কাঁপুনি দেখা যায় (বিশেষ করে বাচ্চাকে হাতে ধরলে এই কাঁপুনি বোঝা যায়)।
অস্বাভাবিক হাঁটা: বাচ্চা তার গোড়ালির ওপর ভর দিয়ে হাঁটে বা একপাশে পড়ে যায়।
চোখের ছানি: যারা বেঁচে যায়, পরবর্তী জীবনে তাদের চোখের মণি সাদা হয়ে যায় (ক্যাটারেক্ট)।
চিকিৎসা: ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে ধকল কমাতে ভিটামিন ও ইলেকট্রোলাইট দেওয়া হয়।
প্রতিরোধ: মা মুরগিকে বা মাদার স্টককে সঠিক সময়ে (৮-১০ সপ্তাহ বয়সে) AE Vaccine দিতে হবে। মা মুরগি ইমিউন থাকলে বাচ্চারা নিরাপদ থাকে।
যেকোনো ঔষধ প্রয়োগের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত ভেটেরিনারি সার্জন বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খামারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
আপনার খামারে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।