"ককসিডিওসিস হলো মুরগির অন্ত্রের একটি পরজীবীজনিত রোগ। এর প্রধান লক্ষণ হলো পায়খানার সাথে রক্ত আসা। এটি মূলত নোংরা লিটার এবং আর্দ্র পরিবেশের কারণে ছড়ায়।"
পোল্ট্রি খামারে রক্ত আমাশয় বা ককসিডিওসিস একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু মারাত্মক সমস্যা। এটি কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া নয়, বরং 'আইমেরিয়া' (Eimeria) নামক এক প্রকার প্রোটোজোয়া বা এককোষী পরজীবীর কারণে হয়। এই পরজীবী মুরগির অন্ত্রের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে মুরগি যা খায় তার পুষ্টি শোষণ করতে পারে না এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
ভেজা লিটার: যদি খামারের লিটার বা তুষ ভিজে যায় এবং সেখানে তাপমাত্রা বাড়ে, তবে পরজীবীগুলো দ্রুত বংশবিস্তার করে।
দূষিত খাবার ও পানি: আক্রান্ত মুরগির পায়খানার মাধ্যমে পরজীবীর ডিম (Oocysts) বাইরে আসে এবং তা খাবার বা পানির মাধ্যমে সুস্থ মুরগির পেটে যায়।
অতিরিক্ত ঘনত্ব: অল্প জায়গায় অনেক মুরগি রাখলে এই রোগ দ্রুত একজন থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
অনুপযুক্ত তাপমাত্রা: খামারের আদ্রতা ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ এই রোগের প্রধান সহায়ক।
এই রোগটি চেনা খামারিদের জন্য বেশ সহজ, কারণ এর লক্ষণগুলো খুব স্পষ্ট:
১. পায়খানার পরিবর্তন:
মুরগি পাতলা পায়খানা করবে এবং পায়খানার সাথে তাজা রক্ত বা রক্তের ছিটেফোঁটা দেখা যাবে।
অনেক সময় পায়খানা কফির মতো গাঢ় বাদামী রঙের হতে পারে।
২. শারীরিক লক্ষণ:
মুরগির ডানা ঝুলে পড়বে এবং চোখ বন্ধ করে ঝিমাতে থাকবে।
মুরগির গায়ের চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে যাবে (রক্তশূন্যতার কারণে)।
খাবারের প্রতি অনীহা বাড়বে কিন্তু প্রচুর পানি পান করবে।
৩. উৎপাদন কমে যাওয়া:
মুরগির ওজন হঠাৎ করে কমে যাবে এবং এফসিআর (FCR) খারাপ হয়ে যাবে।
মুরগি সমভাবে বড় হবে না (কিছু বড়, কিছু ছোট থেকে যাবে)।
রক্ত আমাশয় দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে মুরগি মারা যেতে শুরু করে:
ককসিডিওস্ট্যাট ঔষধ: চিকিৎসায় আম্রোলিয়াম (Amprolium), টল্ট্রাজুরিল (Toltrazuril) বা সালফোনামাইড জাতীয় ঔষধ ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শে ৫-৭ দিন ব্যবহার করতে হবে।
ভিটামিন কে (Vitamin K): অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে পানির সাথে ভিটামিন-কে দেওয়া জরুরি।
লিটার ম্যানেজমেন্ট: যে জায়গার লিটার ভিজে গেছে তা দ্রুত সরিয়ে নতুন শুকনো লিটার দিতে হবে।
পরিপাকতন্ত্রের যত্ন: চিকিৎসার পর প্রো-বায়োটিক ব্যবহার করলে মুরগির অন্ত্র দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।
শুকনো লিটার: খামারের তুষ বা লিটার সবসময় ঝুরঝুরে রাখতে হবে। নিয়মিত লিটার নাড়াচাড়া করে দিতে হবে।
পানির পাত্রের যত্ন: পানির পাত্র এমনভাবে রাখতে হবে যাতে পানি উপচে লিটার না ভেজে।
বায়ো-সিকিউরিটি: খামারের প্রবেশপথে জীবাণুনাশক ব্যবহার করা এবং বাইরের লোক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।
ককসিডিওসিস বা রক্ত আমাশয় খামারের মুনাফা কমিয়ে দেয়। তবে সচেতনতা এবং সঠিক লিটার ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে এই রোগ থেকে খামারকে ১০০% মুক্ত রাখা সম্ভব। আপনার খামারে রক্ত পায়খানা দেখা দিলে দেরি না করে ব্যবস্থা নিন।
যেকোনো ঔষধ প্রয়োগের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত ভেটেরিনারি সার্জন বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খামারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
আপনার খামারে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।