"সিআরডি হলো মুরগির একটি দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। এটি মূলত মাইকোপ্লাজমা নামক জীবাণুর মাধ্যমে হয় এবং খামারে একবার ছড়িয়ে পড়লে মুরগির গ্রোথ বা বৃদ্ধি থমকে দাঁড়ায়।"
পোল্ট্রি খামারে "ঘড় ঘড়" শব্দ বা ঠাণ্ডা লাগার সমস্যাই মূলত সিআরডি। এর পূর্ণরূপ হলো ক্রনিক রেসপিরেটরি ডিজিজ। এটি সাধারণত 'মাইকোপ্লাজমা গ্যালিসেপটিকাম' (Mycoplasma gallisepticum) নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে হয়। এটি সরাসরি মহামারি না হলেও মুরগির মাংস ও ডিম উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়।
এই রোগটি মূলত পরিবেশগত ভুলের কারণে বেশি দেখা দেয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
অ্যামোনিয়া গ্যাস: খামারের লিটার ভিজে গেলে সেখান থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়, যা মুরগির ফুসফুসকে দুর্বল করে দেয়।
অতিরিক্ত ধুলোবালি: খাবারের সূক্ষ্ম কণা বা লিটারের ধুলোবালি শ্বাসনালীতে ঢুকে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
আদ্রতা ও তাপমাত্রা: হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়া বা খুব বেশি আদ্রতা বেড়ে যাওয়া এই রোগের প্রধান কারণ।
মায়ের মাধ্যমে: যদি মাদার স্টকে এই সমস্যা থাকে, তবে বাচ্চার মধ্যেও এটি ডিমের মাধ্যমে আসতে পারে।
সিআরডি আক্রান্ত মুরগি খুব সহজেই চেনা যায়। এর লক্ষণগুলো হলো:
১. শ্বাসকষ্টের লক্ষণ:
মুরগি মুখ হাঁ করে নিঃশ্বাস নেয়।
রাতে নিস্তব্ধ খামারে মুরগির নাক দিয়ে "ঘড় ঘড়" বা ফোঁস ফোঁস শব্দ শোনা যায়।
মুরগি ঘনঘন মাথা ঝাড়ে এবং হাঁচি দেয়।
২. বাহ্যিক পরিবর্তন:
মুরগির চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়ে। অনেক সময় চোখের চারপাশ ফুলে যায়।
খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হয় এবং ওজন দ্রুত কমতে থাকে।
ডিম পাড়া মুরগির ক্ষেত্রে ডিমের উৎপাদন ১৫-২০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
যেহেতু এটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ, তাই সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগে এটি নিরাময় সম্ভব:
অ্যান্টিবায়োটিক: টাইলোসিন (Tylosin), টিয়ামুলিন (Tiamulin) বা এনরোফ্লক্সাসিন (Enrofloxacin) জাতীয় ঔষধ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ৫-৭ দিন প্রয়োগ করতে হয়।
শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখা: মেন্থল বা শ্বাসতন্ত্র পরিষ্কার রাখার সিরাপ দিলে মুরগি দ্রুত আরাম পায়।
পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ: খামারের পর্দা সঠিক নিয়মে ওঠানামা করতে হবে যাতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল (Ventilation) করতে পারে।
প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই এখানে বেশি কার্যকর:
লিটার ম্যানেজমেন্ট: লিটার সব সময় শুকনো রাখতে হবে। সামান্য ভিজে গেলেই ওই অংশটুকু বদলে দিতে হবে।
ঘনত্ব কমানো: খুব গাদাগাদি করে মুরগি রাখা যাবে না।
জৈব নিরাপত্তা: খামারে জীবাণুনাশক স্প্রে করা এবং খাবারের সাথে নিয়মিত ইমিউন বুস্টার দেওয়া।
সিআরডি বা ঠাণ্ডা জনিত সমস্যাকে অবহেলা করলে পরবর্তীতে এটি 'ই-কোলাই' এর সাথে মিলে জটিল রূপ (Complex CRD) ধারণ করতে পারে। তাই খামারে ঘড় ঘড় শব্দ শোনা গেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিন। হিমি এগ্রো সব সময় খামারিদের সঠিক ঔষধ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে।
যেকোনো ঔষধ প্রয়োগের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত ভেটেরিনারি সার্জন বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খামারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
আপনার খামারে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।