HIMIAGRO

৯৮% স্টক
২৩ এপ্রিল ফেনী
মেনু সূচী
হোম বাজার দর

জরুরী প্রয়োজনে

01858969247
হোম পণ্য বাজার দর হেল্প
স্বাস্থ্য সচেতনতা

ওমফালাইটিস বা বাচ্চার নাভি কাঁচা থাকা (Omphalitis / Mushy Chick Disease)

এক নজরে রোগটি

"ওমফালাইটিস হলো নবজাতক মুরগির বাচ্চার নাভির একটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণ। এটি সাধারণত হ্যাচারি বা ব্রুডিং পিরিয়ডের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে হয়ে থাকে।"

ভূমিকা: ওমফালাইটিস বা নাভি কাঁচা থাকা কী?

পোল্ট্রি খামারে বাচ্চা আসার প্রথম ৭ দিনের মধ্যে যে মৃত্যুহার দেখা যায়, তার অন্যতম প্রধান কারণ ওমফালাইটিস। একে সাধারণ ভাষায় 'নাভি পচা' বা 'নাভি কাঁচা থাকা' বলা হয়। যখন বাচ্চার নাভির ছিদ্রটি ঠিকমতো বন্ধ হয় না, তখন সেখান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে ইনফেকশন তৈরি করে। এর ফলে বাচ্চার শরীরের ভেতর থাকা কুসুম (Yolk) ঠিকমতো শোষণ হয় না, যা বাচ্চার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রোগটি কেন এবং কীভাবে হয়? (Causes)

এই সমস্যাটি মূলত দুটি জায়গা থেকে হতে পারে:

  • হ্যাচারির অব্যবস্থাপনা: ইনকিউবেটরের তাপমাত্রা বা আর্দ্রতা ঠিক না থাকলে বাচ্চা ফোটার পর নাভি ঠিকমতো শুকায় না। ইনকিউবেটর নোংরা থাকলে ব্যাকটেরিয়া সহজেই নাভিতে ঢুকে পড়ে।

  • অপরিচ্ছন্ন ব্রুডিং: খামারের যে জায়গায় বাচ্চা রাখা হয় (ব্রুডার), সেখানকার লিটার বা মেঝে যদি নোংরা বা ভেজা থাকে, তবে বাচ্চার নাভি সংক্রমিত হতে পারে।

  • ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ: মূলত ই-কোলাই (E. coli), স্ট্যাফিলোকক্কাস বা সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া এই সংক্রমণের জন্য দায়ী।

ওমফালাইটিসের প্রধান লক্ষণসমূহ (Key Symptoms)

বাচ্চা আসার পর নিচের লক্ষণগুলো দেখলে বুঝবেন সেটি ওমফালাইটিস আক্রান্ত:

  • নাভি ফোলা ও লাল হওয়া: বাচ্চার নাভি বা পেটের নিচের অংশ ভেজা থাকে, ফুলে যায় এবং কালচে বা লালচে রঙ ধারণ করে।

  • পেট বড় ও শক্ত হওয়া: বাচ্চার পেট অস্বাভাবিক বড় দেখায় এবং ধরলে শক্ত মনে হয় (কারণ ভেতরে কুসুম জমা থাকে)।

  • দুর্গন্ধ: আক্রান্ত বাচ্চার শরীর বা নাভি থেকে এক ধরণের আঁশটে বা পচা গন্ধ বের হতে পারে।

  • ঝিমানো ও দলা পাকানো: বাচ্চাগুলো খুব দুর্বল থাকে, খাবার খায় না এবং ব্রুডারের নিচে এক জায়গায় দলা পাকিয়ে বসে থাকে।

  • মৃত্যুহার: বাচ্চা আসার ২-৫ দিনের মধ্যে হঠাৎ করে অনেক বাচ্চা মারা যেতে শুরু করে।

প্রতিকার ও চিকিৎসা

ওমফালাইটিস আক্রান্ত বাচ্চার চিকিৎসা করা বেশ কঠিন, কারণ সংক্রমণ দ্রুত রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। তবুও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়:

  • অ্যান্টিবায়োটিক: বিশেষজ্ঞের পরামর্শে জেন্টামাইসিন, নিওমাইসিন বা এনরোফ্লক্সাসিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ৩-৫ দিন প্রয়োগ করতে হয়।

  • সহায়ক চিকিৎসা: ধকল কমাতে গ্লুকোজ, ভিটামিন এবং ইলেকট্রোলাইট পানির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

  • আলাদা করা: খুব বেশি অসুস্থ বাচ্চাগুলোকে সুস্থদের থেকে আলাদা করে ফেলতে হবে।

প্রতিরোধে করণীয় (Prevention)

প্রতিকারের চেয়ে এই রোগের ক্ষেত্রে প্রতিরোধই একমাত্র উপায়:

  • ভালো হ্যাচারি নির্বাচন: সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং বিশ্বস্ত হ্যাচারি থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করুন।

  • ব্রুডার পরিষ্কার রাখা: বাচ্চা আসার অন্তত ৩ দিন আগে ব্রুডার ঘর ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

  • শুকনো লিটার: ব্রুডারে সব সময় নতুন এবং শুকনো তুষ ব্যবহার করতে হবে।

  • তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: ব্রুডিং পিরিয়ডে প্রথম সপ্তাহে সঠিক তাপমাত্রা (৯৩°F - ৯৫°F) নিশ্চিত করতে হবে যাতে বাচ্চার নাভি দ্রুত শুকিয়ে যায়।

উপসংহার

ওমফালাইটিস আপনার লটের শুরুতেই বড় ধাক্কা দিতে পারে। তাই বাচ্চা আসার পর শুরুতেই তাদের নাভি পরীক্ষা করুন। যদি দেখেন নাভি ভেজা বা পেট ফোলা, তবে দেরি না করে অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পরিষ্কার পরিবেশই পারে আপনার খামারের বাচ্চাদের সুস্থ রাখতে।

বিশেষ সতর্কতা

যেকোনো ঔষধ প্রয়োগের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত ভেটেরিনারি সার্জন বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খামারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

জরুরি পরামর্শ প্রয়োজন?

আপনার খামারে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

কল করুন এখন