HIMIAGRO

৯৮% স্টক
২৩ এপ্রিল ফেনী
মেনু সূচী
হোম বাজার দর

জরুরী প্রয়োজনে

01858969247
হোম পণ্য বাজার দর হেল্প
স্বাস্থ্য সচেতনতা

এগ বাউন্ড বা মুরগির ডিম আটকে যাওয়া (Egg Bound)

এক নজরে রোগটি

"এগ বাউন্ড হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা যখন একটি মুরগি তার প্রজনন নালী থেকে ডিম বের করতে পারে না। এটি মূলত ক্যালসিয়ামের অভাব বা বড় আকারের ডিমের কারণে হয়ে থাকে।"

ভূমিকা: এগ বাউন্ড বা ডিম আটকে যাওয়া কী?

ডিম পাড়া মুরগির ক্ষেত্রে এগ বাউন্ড একটি জরুরি অবস্থা। যখন কোনো কারণে ডিম মুরগির ক্লোয়াকা বা প্রজনন নালীর ভেতর আটকে যায় এবং মুরগি শত চেষ্টা করেও তা বের করতে পারে না, তখন তাকে এগ বাউন্ড বলে। এটি সাধারণত নতুন ডিম পাড়া শুরু করা মুরগি (Pullets) অথবা খুব বেশি বয়স্ক মুরগির ক্ষেত্রে দেখা যায়। সময়মতো ডিম বের করা না গেলে মুরগির অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মৃত্যু ঘটতে পারে।

কেন এবং কীভাবে ডিম আটকে যায়? (Causes)

  • ক্যালসিয়ামের অভাব: ডিমের খোসা তৈরি এবং ডিম বের করার জন্য পেশির সংকোচনে প্রচুর ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। শরীরে ক্যালসিয়াম কম থাকলে পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ডিম ঠেলে বের করতে পারে না।

  • অতিরিক্ত বড় ডিম: অনেক সময় মুরগি স্বাভাবিকের চেয়ে বড় বা ডাবল কুসুমের ডিম তৈরি করলে তা বের হতে বাধা পায়।

  • স্থূলতা বা চর্বি: মুরগির পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমলে ডিম বের হওয়ার পথ সরু হয়ে যায়।

  • অকাল ডিম উৎপাদন: মুরগির শারীরিক গঠন পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি ডিম পাড়া শুরু করে (অল্প বয়সে লাইট দিয়ে বা হরমোনে)।

  • পানিশূন্যতা: পর্যাপ্ত পানি না খেলে প্রজনন নালী পিচ্ছিল থাকে না, ফলে ডিম আটকে যায়।

ডিম আটকে যাওয়ার প্রধান লক্ষণসমূহ (Key Symptoms)

আপনার মুরগি এগ বাউন্ড কি না তা বুঝবেন যেভাবে:

  • বারবার চেষ্টা করা: মুরগি বারবার ডিম পাড়ার জন্য চাপ দেবে কিন্তু ডিম আসবে না।

  • পেঙ্গুইনের মতো হাঁটা: মুরগি পেছনের অংশ নিচু করে পেঙ্গুইনের মতো অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটবে।

  • লেজ ঝাকানো: মুরগি ঘনঘন তার লেজ ওপর-নিচ করবে (Tail pumping)।

  • মলত্যাগে সমস্যা: ডিম আটকে থাকার কারণে মুরগি ঠিকমতো পায়খানা করতে পারে না।

  • ঝিমানো ও দুর্বলতা: মুরগি এক কোণায় চোখ বন্ধ করে বসে থাকবে এবং পেটের নিচের অংশ ফুলে শক্ত হয়ে থাকবে।

এগ বাউন্ডের প্রতিকার ও ঘরোয়া চিকিৎসা

যদি বুঝতে পারেন ডিম আটকে গেছে, তবে নিচের পদক্ষেপগুলো দ্রুত নিন:

  • কুসুম গরম পানির সেঁক: একটি পাত্রে কুসুম গরম পানি নিয়ে মুরগির পেছনের অংশ ১০-১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এতে পেশি শিথিল হবে এবং ডিম বের হওয়া সহজ হবে।

  • পিচ্ছিলকারক ব্যবহার: ক্লোয়াকা বা ডিম বের হওয়ার পথে ভেজলিন বা লুব্রিকেন্ট অয়েল সাবধানে লাগিয়ে দিন।

  • ক্যালসিয়াম সরবরাহ: সাথে সাথে ক্যালসিয়াম সিরাপ বা পাউডার পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ান।

  • বিশ্রাম ও অন্ধকার: মুরগিটিকে একটি নিরিবিলি এবং অন্ধকার জায়গায় রাখুন যাতে সে মানসিক চাপমুক্ত হয়ে ডিম পাড়ার চেষ্টা করতে পারে।

  • সতর্কতা: জোর করে ডিম ভাঙার চেষ্টা করবেন না, এতে ডিমের খোসা ভেতরে ঢুকে মুরগির মৃত্যু হতে পারে।

প্রতিরোধে করণীয় (Prevention)

  • সুষম খাবার: খাবারে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম (যেমন- ঝিনুক চূর্ণ বা লাইমস্টোন) নিশ্চিত করুন।

  • পর্যাপ্ত পানি: খামারে সব সময় পরিষ্কার ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা রাখুন।

  • চর্বি নিয়ন্ত্রণ: মুরগিকে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার দেবেন না এবং ব্যায়ামের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন।

  • সঠিক বয়স: মুরগি যাতে সঠিক ওজনের আগে ডিম পাড়া শুরু না করে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

উপসংহার

এগ বাউন্ড বা ডিম আটকে যাওয়া একটি বেদনাদায়ক সমস্যা। নিয়মিত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি৩ (Vitamin D3) সরবরাহ করলে এই ঝুঁকি অনেক কমে যায়। আপনার প্রিয় মুরগিটি যদি অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটে, তবে দ্রুত পরীক্ষা করুন।

বিশেষ সতর্কতা

যেকোনো ঔষধ প্রয়োগের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত ভেটেরিনারি সার্জন বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খামারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

জরুরি পরামর্শ প্রয়োজন?

আপনার খামারে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

কল করুন এখন