HIMIAGRO

৯৮% স্টক
২৩ এপ্রিল ফেনী
মেনু সূচী
হোম বাজার দর

জরুরী প্রয়োজনে

01858969247
হোম পণ্য বাজার দর হেল্প
স্বাস্থ্য সচেতনতা

মাইকোটক্সিকোসিস বা খাবারে বিষক্রিয়া (Mycotoxicosis / Aflatoxicosis)

এক নজরে রোগটি

"এটি মূলত ছত্রাকাক্রান্ত বা মানহীন খাবার খাওয়ার ফলে সৃষ্ট একটি বিষক্রিয়া। এটি মুরগির লিভার ও কিডনি নষ্ট করে দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একদম কমিয়ে ফেলে।"

ভূমিকা: মাইকোটক্সিকোসিস কী?

পোল্ট্রি ফিডে যখন আর্দ্রতা বা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের কারণে 'ছত্রাক' জন্মায়, তখন সেই ছত্রাক এক ধরণের বিষ তৈরি করে যাকে 'মাইকোটক্সিন' বলা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো 'অ্যাফলাটক্সিন'। এই বিষযুক্ত খাবার মুরগি খেলে তার শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো হতে শুরু করে। এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয়, তবে একই খাবার সব মুরগি খেলে পুরো খামার একসাথে আক্রান্ত হতে পারে।

বিষক্রিয়া কেন এবং কীভাবে হয়? (Causes)

খাবারে বিষক্রিয়া হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:

  • পুরানো বা ভেজা খাবার: ফিড স্টোর করার জায়গায় যদি বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকে বা মেঝে থেকে আদ্রতা খাবারে লাগে, তবে ছত্রাক জন্মায়।

  • ভুট্টার মান: পোল্ট্রি খাবারের প্রধান উপাদান ভুট্টা। ভুট্টা যদি ঠিকমতো না শুকিয়ে মাড়াই করা হয়, তবে তাতে ছত্রাক জন্মানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে।

  • ফিড ডাস্ট: খাবারের পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার না করলে কোণায় জমে থাকা পুরানো খাবারে ছত্রাক তৈরি হয়।

  • অধিক আদ্রতা: বর্ষাকালে বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় খাবারের মান দ্রুত নষ্ট হয়।

বিষক্রিয়ার প্রধান লক্ষণসমূহ (Key Symptoms)

খাবারে বিষক্রিয়া হলে মুরগির মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়:

  • খাবারে অনীহা: মুরগি হঠাৎ করে খাবার খাওয়া কমিয়ে দেয় কিন্তু প্রচুর পানি পান করে।

  • স্থবির বৃদ্ধি: মুরগির ওজন বাড়ে না এবং শরীরের হাড় বেরিয়ে আসে।

  • পায়খানার পরিবর্তন: মুরগি হালকা হলুদ বা হলুদাভ পিচ্ছিল পায়খানা করতে পারে।

  • রক্তস্বল্পতা: মুরগির ঝুঁটি এবং কানের লতি ফ্যাকাশে হয়ে যায়।

  • ডিম উৎপাদন হ্রাস: লেয়ার মুরগির ক্ষেত্রে ডিমের খোসা পাতলা হয়ে যায় এবং উৎপাদন দ্রুত কমে যায়।

  • অভ্যন্তরীণ লক্ষণ: পোস্টমর্টেম করলে দেখা যায় লিভার বড় হয়ে গেছে এবং হলুদাভ রঙ ধারণ করেছে।

প্রতিকার ও ব্যবস্থাপনা (Treatment & Management)

বিষক্রিয়া শনাক্ত হলে সাথে সাথে নিচের ব্যবস্থাগুলো নিতে হবে:

  • খাবার পরিবর্তন: সন্দেহজনক ফিড বা খাবার সাথে সাথে বন্ধ করে নতুন ও তাজা খাবার দিতে হবে।

  • টক্সিন বাইন্ডার: খাবারের সাথে ভালো মানের 'টক্সিন বাইন্ডার' (Toxin Binder) মিশিয়ে দিতে হবে যা পেটের ভেতর বিষ শোষণ করে নেয়।

  • লিভার টনিক: লিভারের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে উচ্চমাত্রার লিভার টনিক এবং ভিটামিন-সি দিতে হবে।

  • গুড়-পানি: অনেক সময় পরিষ্কার পানির সাথে লাল গুড় মিশিয়ে দিলে শরীর থেকে বিষ দ্রুত বের হয়ে যেতে সাহায্য করে।

প্রতিরোধে করণীয় (Prevention)

  • সঠিক স্টোরেজ: খাবার সব সময় কাঠের মাচার ওপর রাখতে হবে যাতে দেয়াল বা মেঝের আদ্রতা না লাগে।

  • তাজা খাবার: এক মাসের বেশি পুরানো ফিড ব্যবহার না করাই ভালো।

  • পাত্র পরিষ্কার: প্রতিদিন ফিডার বা খাবারের পাত্রের কোণা পরিষ্কার করতে হবে।

  • মানসম্মত ফিড: পরিচিত ও বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের ফিড ব্যবহার করা উচিত।

উপসংহার

খাবারের বিষক্রিয়া আপনার খামারের নীরব শত্রু। অনেক সময় এর কোনো বাহ্যিক লক্ষণ থাকে না, কিন্তু মুরগির ইমিউনিটি কমিয়ে দেয়—ফলে সামান্য রানীক্ষেত বা গামবোরোতেই সব মুরগি মারা যায়। তাই খাবারের মানের ব্যাপারে কোনো আপস করবেন না।

বিশেষ সতর্কতা

যেকোনো ঔষধ প্রয়োগের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত ভেটেরিনারি সার্জন বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খামারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

জরুরি পরামর্শ প্রয়োজন?

আপনার খামারে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

কল করুন এখন