"হিট স্ট্রোক হলো অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আদ্রতার কারণে মুরগির শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে হঠাৎ মৃত্যু। পোল্ট্রির শরীরে ঘাম গ্রন্থি না থাকায় তারা বাতাস থেকে তাপ ছাড়তে পারে না, যা এই সমস্যার মূল কারণ।"
মুরগির শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ১০৫°F - ১০৭°F এর মধ্যে থাকে। যখন পরিবেশের তাপমাত্রা ৯০°F (৩২°C) ছাড়িয়ে যায় এবং বাতাসে আদ্রতা বেশি থাকে, তখন মুরগি হাঁপাতে শুরু করে। যেহেতু মুরগির ঘাম হয় না, তাই তারা মুখ হাঁ করে দ্রুত শ্বাস ছেড়ে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করে। এই প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে মুরগির রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং হার্ট ফেইল করে মারা যায়—একেই হিট স্ট্রোক বলে।
অতিরিক্ত তাপমাত্রা: ঘরের তাপমাত্রা ৩৫°C এর উপরে চলে গেলে।
বাতাস চলাচলের অভাব: খামারে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা না থাকলে।
গাদাগাদি করে রাখা: অল্প জায়গায় বেশি মুরগি থাকলে শরীরের গরমে তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায়।
টিনের চালা: খামারের ছাদ যদি নিচু টিনের হয় এবং উপরে কোনো তাপ নিরোধক না থাকে।
ঠাণ্ডা পানির অভাব: গরমে মুরগির শরীরে পানির চাহিদা বাড়ে, পানি গরম হয়ে গেলে মুরগি তা পান করতে পারে না।
হিট স্ট্রোক হওয়ার আগে মুরগি কিছু সংকেত দেয়:
তীব্র হাঁপানো: মুরগি মুখ হাঁ করে খুব দ্রুত শ্বাস নেয় এবং ডানা শরীর থেকে আলাদা করে ঝুলিয়ে রাখে।
অস্থিরতা: মুরগি পানির পাত্রের চারপাশে ভিড় করে এবং মেঝেতে গর্ত করে থাকার চেষ্টা করে।
খাবারে অনীহা: মুরগি খাবার খাওয়া একদম বন্ধ করে দেয় কিন্তু প্রচুর পানি পান করে।
ঝুঁটি ফ্যাকাশে হওয়া: অনেক সময় ঝুঁটি ফ্যাকাশে হয়ে যায় এবং মুখ দিয়ে লালা ঝরতে পারে।
হঠাৎ মৃত্যু: সুস্থ সবল মুরগি হঠাৎ করে ছটফট করে উল্টে গিয়ে মারা যায়। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত এই মৃত্যু বেশি হয়।
যদি দেখেন মুরগি হাঁপাচ্ছে বা মারা যাচ্ছে, তবে দ্রুত নিচের ব্যবস্থা নিন:
পানি স্প্রে: মুরগির মাথায় এবং শরীরে হালকা করে পানির ঝাপটা দিন বা ফগার (Fogger) চালু করুন।
গ্লুকোজ ও ভিটামিন-সি: পানির সাথে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ, ভিটামিন-সি এবং ইলেকট্রোলাইট পাউডার মেশান।
খাবার বন্ধ রাখা: দিনের বেলা তীব্র গরমে (সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা) খাবার সরিয়ে রাখুন। কারণ খাবার হজম হওয়ার সময় মুরগির শরীরে আরও তাপ উৎপন্ন হয়।
বরফ পানি: পানির ট্যাংকে বরফ দিয়ে পানি ঠান্ডা রাখুন।
ছাদের ওপর ব্যবস্থা: টিনের ওপর চটের বস্তা দিয়ে ভেজাতে পারেন অথবা ছাদ সাদা রঙ করতে পারেন যা তাপ প্রতিফলন করবে।
সঠিক ভেন্টিলেশন: খামারে পর্যাপ্ত ফ্যান বা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।
গাছ লাগানো: খামারের আশেপাশে বড় গাছ থাকলে তাপমাত্রা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
আদ্রতা নিয়ন্ত্রণ: ঘরের ভেতর খুব বেশি পানি স্প্রে করবেন না যাতে ভ্যাপসা গরম (Humidity) তৈরি না হয়।
হিট স্ট্রোক আপনার খামারের সবচেয়ে বড় শত্রু হতে পারে যদি আপনি সচেতন না থাকেন। সঠিক সময়ে পানির ব্যবস্থাপনা এবং খামারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এই ক্ষতি থেকে বাঁচা সম্ভব। মনে রাখবেন, একটি সচেতন পদক্ষেপ অনেকগুলো মুরগির প্রাণ বাঁচাতে পারে।
যেকোনো ঔষধ প্রয়োগের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত ভেটেরিনারি সার্জন বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খামারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
আপনার খামারে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।