"রিকেটস হলো মুরগির বাচ্চার হাড়ের একটি সমস্যা, যাতে হাড় নরম ও বাঁকা হয়ে যায়। এটি মূলত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস বা ভিটামিন ডি-৩ এর অভাবে হয়ে থাকে।"
পোল্ট্রি খামারে অনেক সময় দেখা যায় বাড়ন্ত বাচ্চাগুলো ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছে না বা তাদের হাড় রাবারের মতো নরম হয়ে গেছে। এটিই রিকেটস। এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, বরং একটি পুষ্টিগত অভাবজনিত সমস্যা (Nutritional Deficiency)। লেয়ার এবং ব্রয়লার—উভয় জাতের মুরগিতেই এটি দেখা দিতে পারে।
পুষ্টির অভাব: খাবারে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অনুপাত ঠিক না থাকলে।
ভিটামিন ডি-৩ এর অভাব: ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন ডি-৩ অপরিহার্য। এর অভাব হলে মুরগি ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারে না।
সূর্যালোকের অভাব: বদ্ধ ঘরে যেখানে সূর্যের আলো একদম পৌঁছায় না, সেখানে এই সমস্যা বেশি হয়।
পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা: মুরগির পেটে কৃমি বা অন্য সমস্যা থাকলে শরীর পুষ্টি শোষণ করতে পারে না।
নরম হাড় ও ঠোঁট: মুরগির পায়ের হাড় এবং ঠোঁট টিপলে নরম বা বাঁকানো মনে হয়।
পা ছড়িয়ে বসে থাকা: মুরগি নিজের ওজন বহন করতে পারে না বলে পা ছড়িয়ে বসে থাকে।
অস্বাভাবিক হাঁটা: মুরগি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটে বা হাঁটার চেষ্টা করলে পড়ে যায়।
গ্রোথ কমে যাওয়া: বাচ্চার বৃদ্ধি থমকে যায় এবং পালক উসকো-খুসকো দেখায়।
সুষম খনিজ সরবরাহ: পানির সাথে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস সমৃদ্ধ সিরাপ ৩-৫ দিন প্রয়োগ করতে হবে।
ভিটামিন ডি-৩: বাজারে পাওয়া যায় এমন ভালো মানের AD3E ভিটামিন খাওয়াতে হবে।
আলো-বাতাস: খামারে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে।
মাছ বা ঝিনুক চূর্ণ: দেশি মুরগির ক্ষেত্রে খাবারে ঝিনুক চূর্ণ মিশিয়ে দিলে দ্রুত উন্নতি হয়।
যেকোনো ঔষধ প্রয়োগের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত ভেটেরিনারি সার্জন বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খামারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
আপনার খামারে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।