"কৃমি মুরগির অন্ত্রের এক প্রকার পরজীবী যা মুরগির শরীরের পুষ্টি শোষণ করে নেয়। এর ফলে মুরগি পর্যাপ্ত খাবার খেলেও তার বৃদ্ধি হয় না এবং হাড় বেরিয়ে আসে।"
পোল্ট্রি খামারে কৃমি একটি নীরব ঘাতক। এটি রানীক্ষেত বা গামবোরোর মতো মড়ক তৈরি না করলেও, মুরগির এফসিআর (FCR) বা খাদ্য রূপান্তর হার নষ্ট করে দেয়। কৃমি সাধারণত মুরগির অন্ত্র, শ্বাসনালী বা চোখে বাসা বাঁধতে পারে। সঠিক সময়ে কৃমিনাশক ব্যবহার না করলে খামারি আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হন।
মুরগির শরীরে কৃমি ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম হলো পরিবেশ।
দূষিত লিটার ও তুষ: লিটারে কৃমির ডিম দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকে। মুরগি যখন লিটারে ঠোকর দেয়, তখন সেই ডিম পেটে চলে যায়।
কেঁচো ও পোকামাকড়: কেঁচো, মাছি বা বিটল পোকা কৃমির মধ্যবর্তী বাহক হিসেবে কাজ করে। মুরগি এগুলো খেলে কৃমিতে আক্রান্ত হয়।
নতুন মুরগি: কোয়ারেন্টাইন ছাড়া নতুন মুরগি খামারে আনলে তাদের মাধ্যমেও কৃমি ছড়াতে পারে।
কৃমি হলে মুরগির মধ্যে বিশেষ কিছু পরিবর্তন দেখা যায়:
ওজন কমে যাওয়া: মুরগি প্রচুর খাবার খাবে কিন্তু শুকিয়ে যাবে। বুকের হাড় (Keel Bone) স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
ডিমের উৎপাদন হ্রাস: লেয়ার মুরগির ক্ষেত্রে ডিম পাড়ার হার হঠাৎ করে কমে যায়।
পায়খানার পরিবর্তন: পায়খানা কিছুটা পাতলা হতে পারে এবং অনেক সময় পায়খানার সাথে লম্বা সাদা কৃমি বের হতে দেখা যায়।
ফ্যাকাশে ভাব: কৃমি মুরগির রক্ত শোষণ করে নেওয়ায় ঝুঁটি ও কানের লতি ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
পালক উসকো-খুসকো: মুরগির উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায় এবং ডানা ঝুলে পড়ে।
কৃমি দমনের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ঔষধ দিতে হয়:
কৃমিনাশক ঔষধ: পোল্ট্রির জন্য লেভামিসল (Levamisole), অ্যালবেনডাজল (Albendazole) বা পাইপরাজিন (Piperazine) জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করা হয়।
প্রয়োগ পদ্ধতি: ঔষধটি সাধারণত সকালে খালি পেটে পানির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়।
লিভার টনিক: কৃমিনাশক দেওয়ার পর অবশ্যই ২-৩ দিন লিভার টনিক এবং ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স দিতে হয়, কারণ কৃমিনাশক ঔষধ মুরগির লিভারে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করে।
নিয়মিত ডি-ওয়ার্মিং: সোনালী বা পাওমি মুরগির ক্ষেত্রে প্রতি ৪৫-৬০ দিন অন্তর কৃমিনাশক কোর্স করানো উচিত।
লিটার ম্যানেজমেন্ট: লিটার শুকনো রাখা এবং নিয়মিত উল্টেপাল্টে দেওয়া।
পরিমিত চুন ব্যবহার: মেঝেতে চুন ছিটালে কৃমির ডিম ধ্বংস হয়।
খাঁচায় পালন: মেঝের চেয়ে খাঁচায় পালিত মুরগিতে কৃমির উপদ্রব অনেক কম হয়।
কৃমিমুক্ত মুরগি মানেই সুস্থ খামার এবং দ্রুত গ্রোথ। খামারের লাভ বাড়াতে সঠিক সময়ে কৃমিনাশক কোর্স সম্পন্ন করুন। মনে রাখবেন, অসুস্থ বা ধকলের মধ্যে থাকা মুরগিকে কখনোই কৃমিনাশক ঔষধ দেওয়া যাবে না।
যেকোনো ঔষধ প্রয়োগের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত ভেটেরিনারি সার্জন বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খামারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
আপনার খামারে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।